সোমবার ২০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী বাজেট প্রত্যাশা এমসিসিআই’র

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬   প্রিন্ট   ২৮ বার পঠিত

সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী বাজেট প্রত্যাশা এমসিসিআই’র

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট যেন ব্যবসায়ীদের জন্য ‘শাস্তিমূলক’ না হয়ে বরং ‘সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী’ হয়, সেই আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের এই কঠিন সময়ে করজাল সম্প্রসারণ ও ব্যবসা সহজীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর লেকশোর হোটেলে এমসিসিআই এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বেসরকারি খাতের অগ্রাধিকার ও দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়।

সেমিনারের স্বাগত বক্তব্যে এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সময় অতিক্রম করছি। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, উচ্চ সুদহার এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আমাদের বিনীত প্রত্যাশা– আসন্ন জাতীয় বাজেটটি যেন ‘শাস্তিমূলক’ না হয়ে বরং ‘সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী’ হয়।”

সেমিনারে এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বাজেটের জন্য ছয়টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে– করজাল সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন; করপোরেট কর কমানো; ইউনিফাইড করদাতা প্রোফাইল তৈরি; পিএসআর ও আইনি অসংগতি দূর করা; ভ্যাট ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং এসএমই খাতকে সুরক্ষা প্রদান।

করজাল সম্প্রসারণের বিষয়ে কামরান টি রহমান বলেন, দেশে এক কোটির বেশি ‘টিআইএন’ থাকলেও অর্ধেকেরও কম রিটার্ন জমা দেন। এনআইডি ও টিআইএন ডেটাবেজ পূর্ণাঙ্গভাবে একীভূত করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, নতুন করদাতাদের ভীতি দূর করতে বছরে মাত্র ১০০ বা ১ হাজার টাকার ‘প্রতীকী ন্যূনতম কর’ এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজ রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা করা হোক।

করপোরেট কর প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কর হার কমানো হলেও ‘নগদ লেনদেনের’ কঠোর শর্তের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাচ্ছে না। অর্থনীতির বাস্তবতায় এই শর্তটি বাতিলের অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার আরও ২.৫ শতাংশ কমানোর দাবি জানান তিনি।

সেমিনারে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বাজেটে বড় অঙ্কের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলে তা বিদ্যমান করদাতাদের জন্য হয়রানির কারণ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘যখনই রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়, তখন যারা নিয়মিত কর দেন তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এতে নতুন করদাতারা কর দিতে নিরুৎসাহিত হন।’ ২০০৯ সাল থেকে ভ্যাট সংগ্রহের জন্য ‘ইসিআর বা ফিসক্যাল’ ডিভাইস ব্যবহারের কথা থাকলেও গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে এ বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সেমিনারে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ, অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া, নিউএইজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম এবং ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শামস মাহমুদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসের জন্য একটি সমন্বিত ‘ইউনিফাইড করদাতা প্রোফাইল’ চালুর দাবি জানান।

Facebook Comments Box
×

Posted ০৬:১৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com